দেশের বাজারে কমে আসছে সব ধরনের ডালের দাম

দেশের পাইকারি বাজারে কমে এসেছে ডালের দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে।

দেশের পাইকারি বাজারে কমে এসেছে ডালের দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এ সময় সাধারণত ডালের চাহিদা কিছুটা কমে আসে। এছাড়া সম্প্রতি চাহিদার তুলনায় সরবরাহও বেড়েছে। ফলে গতকাল ১০ দিনের ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা। গতকাল খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মসুর ডাল। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে চাহিদা মেটাতে না পারায় আমদানির ওপর নির্ভরশীল ভোক্তারা। বছরখানেক আগেও প্রতি কেজি মোটা মসুর পাইকারিতে কেজিপ্রতি লেনদেন হতো ৫৫-৬০ টাকায়। তবে নানা সংকট ও আমদানি কমে যাওয়াসহ ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১১০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে আবার তা কমে কেজিপ্রতি ৯৫ টাকায় নেমেছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা।

মসুর ছাড়াও মুগ, ফেলন, মটর, ছোলা, মাষকলাই ও খেসারি ডালের দামও নিম্নমুখী। রবি মৌসুমে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ডালের সরবরাহ শুরু হবে। এ কারণে পাইকারি বাজার থেকে ডালের চাহিদাও কমেছে। ফলে মজুদ থেকে সরবরাহ বাড়িয়েছে আমদানিকারক ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

মটর (অ্যাংকর) ডালের দাম ৫ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায় নেমে এসেছে। ছোলার দাম কমেছে কেজিতে ৮ টাকা। প্রতি কেজি বেচাকেনা হচ্ছে ১১৬ টাকা ৫০ পয়সায়। মটর ৫ টাকা কমে ৫৪ টাকায় নেমে এসেছে। খেসারি ডালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৫ টাকা। বর্তমানে বেচাকেনা হচ্ছে ১০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো আরো জানায়, মাষকলাইয়ের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৬০-১৬২ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে আমদানীকৃত মুগডালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা। পণ্যটি বেচাকেনা হচ্ছে ১০২-১০৩ টাকায়। এছাড়া দেশী মুগডালের দাম ১০ টাকা কমে ১৫০ টাকায়, ফেলন ডাল কেজিপ্রতি ১৫ টাকা কমে ১৪৫ টাকায় ও ছোলার ডাল কেজিপ্রতি ১১-১৬ টাকা কমে ১১৯ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় মসুর ও অ্যাংকর ডাল। খাতুনগঞ্জের ডাল ও মসলাপণ্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেকান্দর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাধারণত মানুষের মধ্যে সারা বছরই ডালের চাহিদা থাকে। তবে শীতকালে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় তা কমে যায়। এ কারণে আমদানিকারকরাও মজুদ ডাল কম দামে বাজারে ছেড়ে দেয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে পণ্যটির দাম কমছে।’

খাতুনগঞ্জের চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির নেতারা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌দেশের সিংহভাগ ডালই আমদানিনির্ভর। তবে শীত মৌসুমে দেশী ডালের উৎপাদন শুরু হলে চাহিদা কমে আসে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত আমদানিও শুরু করেছে। ফলে কমে এসেছে পণ্যটির দাম।’

আরও